
মর্নিংসান অনলাইন //
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনকে (সিএসএ) ‘ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে এটি বাতিল কিংবা সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস। একইসঙ্গে মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে সিএসএ, ডিএসএ ও আইসিটি অ্যাক্টের সব মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
গত মঙ্গলবার আমেরিকান বারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ : ফ্লড সাইবার ক্রাইম রিজিম রিকোয়ারস রিপিল অর রিফর্ম, সেপ্টেম্বর, ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাকস্বাধীনতা চর্চার জন্য মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে গত জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩৬ মামলা দায়ের ও আসামি করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৭ জনকে।
ঢাকাভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিজিএসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর অন্তত ৬২ মামলা ও ৩৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ আইনগুলোর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ।
আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন এসব আইনে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নয় মাসের বেশি কারাবন্দি থাকার পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যাওয়া লেখক ও কলামিস্ট মুশতাক আহমেদসহ কয়েজনের উদাহরণ টেনেছে। অন্তত ছয়বার মুশতাকের জামিন নাকচ হয়। ওই সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনটির ব্যবহার বাংলাদেশে মৌলিক মানবাধিকার চর্চার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি। অন্তর্বর্তী সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে। ফলে তারা কিছু সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে পারে। বিকল্প হিসেবে সরকার আইনের ২১, ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারায় মৌলিক সংশোধন আনতে পারে।