প্রতীকী ছবি।
জামাল আহমেদ, কানাইঘাট থেকে ঘুরে এসে স্টাফ রির্পোটার, সিলেট //
সিলেটের কানাইঘাট সদর উপজেলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ শাহীন কবীরের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকাশ্যে চলছে এই রমরমা বাণিজ্য। স্থানীয় উপজেলার কতিপয় অসাধু দালালদের সহযোগীতায় ওই অসাধু ব্যক্তি গড়ে তোলেছেন ঘুষ বাণিজ্যের আয়নাঘর। যেকোন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভূমি অফিসে সহযোগীতার জন্য গেলে গুণতে হয় বড় অংকের চাঁদা অন্যথায় দিনের পর দিন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের দৌড়ের উপর রাখা হয়। সরেজমিন অনূসন্ধ্যানে এরকম চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ১ নং-লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী প্রতিবেদক’কে জানিয়েছেন, ওই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বাড়ি সিলেটের ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত আলমপুর এলাকায়। তিনি কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর নিজেকে সিলেটের স্থানীয় লোক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অল্পদিনে গড়ে তোলেছেন বড় একটি দালাল সিন্ডিকেট গোষ্ঠি। তারা তাকে সবসময় যেকোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। এর সত্যতাও মিলেছে সরেজমিন অনূসন্ধ্যানে।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেখা যায় সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্ষা না করে একটানা সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অবিরাম চলছে অফিসের কার্যক্রম। দেখলে মনে হবে এটা কোন সরকারী তহসিল অফিস নয়, এযেনো কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এভাবে প্রত্যেকদিন-রাত চলে কার্যক্রম। অফিসের পাশেই রয়েছে সামরিক সেনা বাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প । ঘোষখোর দুর্নীতিবাজরা সেই অফিসের সামনে দিয়েই নির্ভয়ে এসকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে দু’হাতে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাই করছেন কথিত ওই শাহীন কবীর। এছাড়াও দেখা যায় অফিসে যারাই যান তারা প্রকাশ্যে হাত বাড়িয়ে ঘুষ বাণিজ্যের লেনদেন ছাড়ছেন। সরেজমিন তদন্তের নামেও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা নতুবা ফাইল আটকে থাকে তার টেবিলে।
অনূসন্ধ্যানকালে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন শাহীন কবীরের সবচেয়ে বিশ্বস্থ্য ও কাছের লোক হচ্ছে আব্দুরকিব নামের এক শীর্ষ দালাল। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতে মামলাও চলমান। ইতিমধ্যে সে কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে হাত মিলিয়েছে শাহীন কবীরের সঙ্গে। ওই শীর্ষ দালালকে তিনি তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দালালের মাধ্যমে শুধু এক, একটি কাজের জন্য দেড় লাখ টাকা হারে ঘুষ বাণিজ্য করেন তিনি। আরও একাধিক কাজ ঝুলিয়ে রেখে চলছে ধর কষাকষি। তার অফিস পিয়ন থেকে শুরু করে দায়িত্বে থাকা অন্যান্যরাও বড় অংকের চাঁদা হাতিয়ে নিয়ে শাহীন কবীরের হাতে তুলে দেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে গত সপ্তাহে ওই শীর্ষ দালাল ও শাহীন কবীরের ঘুষ বাণিজ্যের বিচারকাজ তার অফিসেই বসে করা হয়েছে। এসময় তারা দু’জনেই ক্ষমাপ্রার্থী হলে মধ্যস্থ্যতাকারীরা তাদের ক্ষমা করে দেন। এই ঘটনার ২৯ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে। সেখানে শুনা যায় একটি কাজের জন্য একলাখ আটারো হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই দুইজন মিলে তাও কয়েকজন হতদরিদ্রের টাকা। তাদের আলাপে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। হতদারিদ্র লোকেরা ওই টাকাও আবার সিলেটের এক বিশ্ষ্টি সমাজসেবী ব্যক্তির কাছ থেকে তাৎক্ষণিখ ঋণ করে এনে তাদের হাতে তুলে দেন। শাহীন কবীর প্রথমে পঞ্চান্ন হাজার টাকা পেয়েছেন বললেও পরবর্তীতে তিনি পুরো টাকা পেয়েছেন বলেও বৈঠকে স্বীকার করেন। দালালের মুখে আরেকটি বিষয় বলতে শুনা যায় আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে বিষয়টি নিস্পত্তি করা যাবে। মূলত সরকারি খাস ভূমি বন্দোবস্তীয় বিষয় নিয়ে এই আলাপচারিতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে গোপন একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই দুই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের কপালে জুঠে হয়রানিমূলক মামলা-মোকাদ্দমা। এতে ভয়ে স্থানীয় এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে রাজি হয়না। কারন তারা নিজেরা নিরাপদ হতে গিয়ে প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ দিয়ে মিথ্যা বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তৈরি করে বিভিন্ন প্রশাসনে দাঁড় করিয়ে দেয়। স্থানীয়ভাবে অনেক সংবাদকর্মীরাও তাদের বিরুদ্ধে সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে ভয় পান।
এব্যাপারে রোববার সাড়ে তিনটার দিকে সরাসরি শাহীন কবীরের সাথে কথা বলতে গেলে এক অফিস সহকারী বলেন, স্যার এখন অফিসে নেই। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শীর্ষ দালালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে রোববার ও সোমবার তাদের দু’জনের মধ্যে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ মঙলবারও তারা দু’জন গোপন আলাপচারিতায় বসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এরকম কোন বিষয় তার জানা নেই তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.