স্টাফ রির্পোটার, হবিগঞ্জ //
হবিগঞ্জ জেলায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অফিসে যে পরিমাণ কনডম ও খাবার বড়ি মজুদ রয়েছে তা মাসখানেক যেতে পারে। এরপরই এই পণ্যটি সরবরাহ করতে পারবেনা মাঠ কর্মীরা। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জন্মহার বাড়ার
শঙ্কা করছেন সচেতন মহল। আটটি উপজেলায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দপ্তরের শীর্ষ স্থানীয়রা এবিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতি এমন হচ্ছে। মাঠ কর্মীরা সাধারণত পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী দম্পতিদের মধ্যে বিতরণ করেন। এরমধ্যে কনডম, খাবার বড়ি সব থেকে বেশি জনপ্রিয়। আর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইইউডি, ইনজেক্টেবলস ও ইমপ্ল্যান্ট দিয়ে থাকেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলায় প্রতি বছর ৪ লাখ ১২ হাজার দম্পতিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ
করে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়। এরমধ্যে আগস্ট মাসে খাবার বড়ি সরবরাহ করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। কনডম ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ইনজেকশন ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, আইইউডি ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ইমপ্ল্যান্ট ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। খাবার বড়ি শুধুমাত্র চুনারুঘাটে ৯১০ পাতা, মাধবপুরে ৭০ পাতা ও নবীগঞ্জে ২৪০ পাতা রয়েছে। বাকি উপজেলা গুলোতে এখন মজুত নেই। আইইউডি, ইনজেক্টেবলস ও ইমপ্ল্যান্টের যে মজুত আছে তা দিয়ে চলা সম্ভব হবে। এছাড়া সিলেট থেকে এগুলোর সরবরাহও করা যাবে বলে জানিয়েছেন।
জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রাজস্ব বাজেট থেকে খরচ করার ক্ষমতা দেওয়া আছে। তবে
গত বছর মন্ত্রণালয় সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে বাধা দেয়। ফলে প্রয়োজনের সময় রাজস্ব বাজেট ব্যবহার করতে পারেনি অধিদপ্তর।
অন্যদিকে উন্নয়ন বাজেট থেকে কিনতে হলে প্রক্রিয়া শুরু করে শেষ করতে কয়েক মাস লেগে যায়। উন্নয়ন বাজেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনার জন্য এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহবান করা হয়। ৭ মার্চ দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। যোগ্য ও সর্বনিম্ দরদাতাকে কাজ না দিয়ে দরপত্র বাতিল করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এরপর বিভিন্ন পক্ষ একাধিক স্থানে অভিযোগ দেয় ও হাইকোর্টে মামলা করে। সেই জট এখনো খোলেনি। সচেতন মহল বলছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সময় মতো জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ না করা গেলে অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বাড়বে। এই সাথে বাড়তে পারে মাতৃ মৃত্যুর হারও। ২০৩০ সালের মধ্যে অপূর্ণ চাহিদার হার ও মাতৃমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি আছে, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.