• ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

জৈন্তাপুর সীমান্তে থেমে নেই চোরাচালান বাণিজ্য!

admin
প্রকাশিত ০৪ নভেম্বর, সোমবার, ২০২৪ ১৬:১৬:৪৪
জৈন্তাপুর সীমান্তে থেমে নেই চোরাচালান বাণিজ্য!

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি //


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সবকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিরাপদে প্রবেশ করছে ভারতীয় পণ্য সামগ্রী। পাচার হচ্ছে দেশের আমদানীকৃত রসুন, বিনিময়ে আসছে নিম্ন মানের চা-পাতা, ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী, শাড়ী-লেহেঙ্গা, ভারতীয় গরু-মহিষ, মোটরসাইকেল, আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি (পাতার বিড়ি), সুপারী, নানান ব্যান্ডের মদ, মোবাইল হ্যান্ডসেট, ভারতীয় চিনি ও ঔষধ সামগ্রী। প্রশাসনের অভিযান নিয়ে রয়েছে নানা বির্তক। যদিও লোক দেখানো অভিযান নিয়মিত থাকলেও রহস্যজনক কারনে এসব পণ্য জব্দ করা সত্তেও চোরাই সদস্যরা থেকে যাচ্ছে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার হাতে শীর্ষ চোরাকারবারীদের তালিকা কাগজে কলমে টেবিল বন্ধি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অনেকে এখন জিরো থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। এসব এলাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি চোরাকারবারীদের অবৈধ সম্পদের খোঁজ নেয় তাহলে বেরিয়ে আসবে অল্পদিনে কালো টাকার পাহাড় গড়া রাঘব বোয়ালরা।

সরেজমিন জৈন্তাপুর উপজেলার নলজুরী, আলুবাগান, মোকামবাড়ী, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, মিনাটিলা, আদর্শগ্রাম, কেন্দ্রী, কাঠালবাড়ী, লম্বাটিলা, ডিবিরহাওড়, ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, তলাল, করিমটিলা, গোয়াবাড়ী, বাইরাখেল, হর্নি, জালিয়াখলা, কালিঞ্জি, লালাখাল, আফিফানগর, অভিনাশ ও লাল মিয়ার টিলা, জঙ্গীবিল, তুমইর, বাঘছড়া, বালিদাঁড়া ও ইয়াংরাজা ও রাবারবাগান এলাকা দিয়ে নিরাপদে চলছে অবৈধ ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান বানিজ্য।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিরা জানান, বিগত ৫ আগষ্টের পরে দেশের রাজনৈতিক পঠ পরিবর্তনের পূর্ব হতে বর্তমান পর্যন্ত চোরাচালান বানিজ্যের নিরাপদ উপজেলা হয়ে উঠেছে সিলেটের জৈন্তাপুর। বিশেষ করে উপজেলা পার্শ্ববর্তী গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার চোরাচালানের পণ্য জৈন্তাপুর উপর দিয়ে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছে চোরাচালানিরা।
তারা আরও বলেন, চোরাচালান পণ্যের বানিজ্যে জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ন্ত্রন করেন ঢাকার বাসিন্ধা সামাদ ও আরমান নামের দুই ব্যক্তি। তাদের বিশ্বস্ত দুই ব্যক্তির মাধ্যমে পুরো জৈন্তাপুর উপজেলা সীমান্ত বানিজ্য নিয়ন্ত্রন করেন। এই দুই ব্যক্তিরা তারা হলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলাতৈল গ্রামের আব্দুল করিম উরফে বেন্ডিজ করিম, অপরজন হলেন বাইরাখেল গ্রামের আব্দুল মালিক ওরফে আব্দুল।

উত্তর-পূর্ব সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় গরু-মহিষের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য কোথাও কোন খামার নেই। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখতে পাওয়া যায় ভারতীয় গরু মহিষের বাজার দখল করে রেখেছে। এর প্রধান ঘাটি হিসেবে ব্যবহ্নত হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গেট সংলগ্ন এলাকা জৈন্তাপুর বাজারে।

স্থানীয়রা জানান প্রতি রাতে সীমান্তের ওপার হতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আতাত করে সিজার চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরাতে এসব রোগাক্রান্ত পশুসহ পণ্য জৈন্তাপুর বাজারে এসে প্রবেশ করছে। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ঢুকছে মাদক সামগ্রী, প্রসাধনী সামগ্রী, চিনি, সুপারী, নিম্নমানের চা পাতা, মোবাইল হ্যান্ডসেট, শাড়ী-লেহেঙ্গা, ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধ শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, ঔষধ সামগ্রী। এসব পন্য প্রবেশের সুযোগ তৈরী করে দেন লাইনম্যান খ্যাত সামাদ ও আরমান এর সদস্য বেন্ডিজ করিম, আব্দুল ও ল্যাপ্টিন শহীদ। বিনিময়ে তারা প্রশাসন ম্যানেজের নামে রাজকীয় কায়দায় আদায় করেনে মোটা অংকের টাকা। তাদের উত্তোলিত টাকা সামদ ও আরমানের হাত ধরে চলে যায় বিভিন্ন স্থানে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সিলেট গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), বর্ডার গার্ড (বিজিবি)’র নামে টাকা সংগ্রহ করেন বেন্ডিজ করিম, আব্দুল, সামাদ ও আরমান। ল্যাপ্টিন শহীদ জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে বড়ো অংকের চাঁদা উত্তোলন করছেন। গতরাতেও তারা চাঁদা উত্তোলন করেছেন বলে একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হলেও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কোন টনক নড়েনি। বিজিবি’র পাশাপাশি থানা পুলিশ এনিয়ে সাংবাদিকদের নিকঠ বরাবরের মতো দায় সাড়া বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এই প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশ করতে গেলেও হামলা-মামলার হয়রানির শিকার হতে হয় বস্তনিষ্ট সাংবাদিকদের। তাদের পেছনে মদদ দেন কতিপয় কিছু অসাধু বিজিবি ও পুলিশ সদস্য। গডফাদার হিসেবে ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় উপজেলার শীর্ষ চোরাকারবারী কর্তা ব্যক্তিরা। সম্প্রতি জৈন্তাপুর মডেল থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) যোগদানের পর ওপেন সিক্রেট চোরা বানিজ্যে পরিণত হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে সামাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর রং নাম্বার বলে কেটে দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন নাম্বার হতে সামাদ ও আরমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বেন্ডিজ করিমের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি চাঁদা উত্তোলন ও এরকম কোন বিষয়ের সাথে জড়িত নয় বলে জানান। ল্যাপ্টিন শহীদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে অতি গোপনে কৌশলগত দিক অবলম্বন করে চাঁদা আদায় বাণিজ্যে চললেও ধরাছোঁয়া দূরহঃ হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে এসব অপরাধী চক্র। যদি তাদের কললিষ্ট যাচাই-বাছাই করা হয় তাহলে বেরিয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

১৯ ও ৪৮ বিজিবির সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ হতে জানানো হয়, ১৯ ও ৪৮ বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন পণ্য আটক করা হচ্ছে। তাদের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সমাদ ও আরমান নামে কোন ব্যক্তির সাথে বিজিবির কোন সম্পর্ক নেই। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, জৈন্তাপুর থানায় আমি যোগদানের পর পুলিশের বিশাল পরিবর্তন আনা হয়েছে এছাড়া পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ পন্য আটক করা হয়েছে। থানা পুলিশের পক্ষ হতে কোন লাইন নেই। পুলিশের অভিযান চলনাম রয়েছে।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর-কানাইঘাট সার্কেল অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এরকম কোন অভিযোগ তার কাছে নেই। অভিযোগ পেলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।