
ফাইল ছবি।
দ্য ডেইলিমর্নিংসান অনলাইন //
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৫ এ এ কথা বলা হয়েছে। ৫৪৬ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টটি এইচআরডব্লিউ-এর ৩৫তম বার্ষিক প্রতিবেদনে ১০০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তিরানা হাসান তার প্রারম্ভিক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের অনেক দেশে সরকারগুলো রাজনৈতিক বিরোধীদের, কর্মী ও সাংবাদিকদের দমন ও গ্রেপ্তার করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনী বেআইনিভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, বাস্তুচ্যুত ও মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করেছে।
এতে বলা হয়েছে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করেছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে তিন সপ্তাহব্যাপী ছাত্র আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হন।
মানবাধিকার সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার-সম্মত ভবিষ্যতের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া এই অগ্রগতি স্থায়ী নাও হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, গুমের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নাগরিক তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যুতে কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও তাদের আইনি অধিকার ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ, বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি বা তাদের পরিবারের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যর্থতা এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
এইচআরডব্লিউ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মানবাধিকার মান অনুযায়ী সংস্থাগুলোকে সংস্কার করার আহ্বান জানিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বাতিল করা, নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য স্বাধীন তত্ত্বাবধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে কাজ করা।