
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আসামির সঙ্গে ওসি জিয়াউল, ছবি-সংগৃহীত।
বিশেষ প্রতিবেদক //
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হামলার মামলায় যুবলীগ ক্যাডার ও কথিত আধুনিক টিভি ইউটিউবার মামুন আহমদ ওরফে চেছরা মামুন (৩২)’কে আটক করেছে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে থাকে আটক করা হয়।
আটককৃত মামুন হলেন- সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার জিঙ্গাবাড়ি দলইমাটি এলাকার মৃত ফরমুজ আলীর ছেলে। বর্তমানে সে শাহপরান থানাধীন নীপবন আবাসিক এলাকায় বাসা বাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে দেখা গেছে মামুনকে এসএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলতে। এসময় ওসি আসামি মামুনকে নিয়ে আমোদ প্রমোদে মত্ত ছিলেন। এনিয়ে চলছে গুঞ্জণ।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সিলেট জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও মোগলাবাজার থানার মির্জাপুর গ্রামের মো. নামর আলীর ছেলে সাজিব আহমদ বাদী হয়ে ৪৭৭জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় গত ৩ ফেব্রুয়ারী মামলাটি রেকর্ড করা হয়। উক্ত মামলায় চেছরা মামুনকে ২৭ নং আসামী হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়। যার মামলা নং- ৬৮/২৫।
এদিকে মামুন আটকের পর তারই এক সহযোগি তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানা পুলিশে তদবির করছেন বলে একটি সংশ্লিষ্ট সুত্র নিশ্চিত করেছে। যদিও এই মামুনের বিরুদ্ধে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও ইউটিউব খোলে বিভিন্ন জনকে হুমকি-দমকি দেখিয়ে বড়ো অংকের চাঁদা হাতিয়ে নিত। অতীতেও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ অপকর্মের পাহাড়সম বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার আমলে এসব অপকর্মের নাটের গুরু ছিলেন মামুন।
এব্যাপারে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাহপরাণ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা রয়েছে। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
ওসির একান্ত আলাপ-
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামির সাথে একান্ত গোপন আলাপচারিতায় দেখা গেছে সিলেটের কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হককে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সাব রেজিস্ট্রারী মাঠে সিলেট সোসাইটির একটি অনুষ্টানের সময় এ গোপন আলাপের ঘটনা ঘটে।
বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, ঐ অনুষ্ঠানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার অথিতি হিসেবে যোগদানের কথা ছিল। এ সময় পুলিশ কমিশনারের সভাস্হলে পৌছার অপেক্ষায় ছিলেন ওসি জিয়াউল হক। এরফাঁকে তার সাথে গিয়ে আলাপচারিতায় মেতে উঠেন পলাতক আসামী মামুন।
অপরদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সিলেট সোসাইটি অনুষ্টানে যোগদানের কথা ছিল কি না এনিয়ে জানতে তার সরকারি মুঠোফোনে ও তার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরেকটি সূত্র জানায়, মামুন আসামী হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে কৌশল অবলম্ভন করছে মামলা থেকে রেহাই পেতে। সুত্রটি জানায়, ইতিমধ্যে তিনি মামলার চার্জশিট থেকে নিজের নাম বাদ দিতে জোর লোবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারি কর্মকর্তার নিকট। অথচ এর কয়েক ঘন্টা পরই তাকে আটক করে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
নিয়মিত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন।