ক্রীড়া প্রতিবেদক //
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ সকালে বাংলাদেশে এসেছিলেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা এই ফুটবলার গত ২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচ খেলে গতকাল দেশে ফিরেছিলেন। এবার ক্লাব ফুটবলে মনোনিবেশ করতে ইংল্যান্ডে ফিরে গেলেন ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে ইংল্যান্ডের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিতে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছেন হামজা। জানা গেছে, সকাল পৌনে দশটার ফ্লাইটে তিনি প্রথমে ঢাকা থেকে সিলেটে যান। এরপর পৌনে বারোটার দিকে ওই ফ্লাইটে করেই সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে উড়াল দেন বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন এই সেনসেশন।
দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন হামজা চৌধুরী। জানিয়ে গেছেন, বাংলাদেশে কতোটা ভালো সময় কাটিয়েছেন তিনি। জুনে আবারো লাল-সবুজের দেশে আসার অপেক্ষায় ফুটবল স্টার। সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হামজা, 'ধন্যবাদ সকলকে। ইনশা আল্লাহ আমি জুনে আবার আসবো। আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। পরের দুই বড় ম্যাচের জন্য আবারও আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।'
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ঐ ম্যাচ খেলতে পুনরায় বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে হামজার। বাফুফেও চায় ম্যাচটি ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে। যদিও স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ এখনও চলমান রয়েছে। তাই সেখানে আয়োজন করা না গেলে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় হতে পারে ম্যাচটি। এরপর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে ফিরতি লেগ অনুষ্ঠিত হবে।
হামজাকে নিয়ে গত ১০ দিন বাংলাদেশে তুমুল উন্মাদনা দেখা গেছে। তার নিজ জেলা হবিগঞ্জে ১৭ ও ১৮ মার্চ বিপুল সংবর্ধনা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। ১৮ মার্চ রাতে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগদান করেন তিনি। পরদিন কিংস অ্যারেনায় তার অনুশীলন ঘিরেও ছিল সবার তুমুল আগ্রহ। ২০-২৫ মার্চ ভারতের শিলংয়ে ছিলেন ম্যাচ খেলতে। ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সবার মন জয় করেছেন।
তবে শুধু খেলা নয়, আচার-আচরণেও হামজা ছিলেন অনন্য। নিজে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় হলেও সতীর্থদের সম্মান ও বিনয়ী মনোভাবে সবার হৃদয়ে জায়গা করেছেন অতি অল্প সময়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা হামজার আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলোর সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবলের এই নতুন জাগরণ ফেডারেশন কিভাবে কাজে লাগায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মতামত ব্যক্ত করুন।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.