• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

বড়লেখায় দুইপক্ষের মামলা নিয়ে চলছে পুলিশের লুকোচুরি বাণিজ্য!

admin
প্রকাশিত ২৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ১৯:৩০:৫১
বড়লেখায় দুইপক্ষের মামলা নিয়ে চলছে পুলিশের লুকোচুরি বাণিজ্য!

বড়লেখা থেকে ঘুরে এসে সিলেট প্রতিনিধি //


মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার মামলা নিয়ে চলছে পুলিশের লুকোচুরি। এনিয়ে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ সোমবার সকালে ছাগল ছড়ানো নিয়ে উপজেলার মহারানী দাসের বাজার গ্রামে কথিত আওয়ামী দোসর টুকা গ্রামের মৃত রবি দাসের ছেলে দীপাল দাসের হুকুমে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১০/১২জন সন্ত্রাসী দুর্বৃত্ত হামলা চালায় রুবি দাসের বসত বাড়ী ও তার পরিবারের লোকজনের উপর। এসময় আত্মরক্ষার্থে ওই বৈষ্ণব পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রুবি দাসের বসতবাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ বড়লেখা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে রুবি দাসের অভিযোগপত্র গায়েব করে ফেলে পুলিশ।

পরের দিন ১৮ মার্চ আওয়ামী দোসর দীপাল দাসের পক্ষ নিয়ে সুষ্টু তদন্ত ছাড়াই তড়িগড়ি করে তার মামলাটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে পুলিশ। এতে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা সুব্রত চন্দ্র দাস সঠিক তথ্য এড়িয়ে গিয়ে পক্ষপাতমূলক মামলাটি রুজু করেন। তিনি এই ঘটনাকে ১৬ মার্চ ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ রোববার (১৬ মার্চ) রুবি দাসের সঙ্গে কারও কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বা তার কোন ছাগল প্রতিপক্ষের সবজি ক্ষেতে যায়নি । এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ বড়ো অংকের চাঁদা হাতিয়ে নিয়ে তদন্ত না করেই এই মামলা রুজু করে।

অভিযোগ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই মামলায় প্রায় ৭৫ বয়সি প্রতিবন্ধি বৃদ্ধ লোক ছাড়াও আরো নাবালিকা দুই শিশু কণ্যাকে আসামি করা হয়। এছাড়া সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে বিরোধীদের হামলার শিকার হোন বৈষ্ণব মদন দাস নান্টু। এরপরে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার দিন ও তারিখে তাদের একটি ছাগল সবজি ক্ষেতে গেলে প্রতিপক্ষ বিমল দাস ছাগলটিকে মারধর করতে থাকেন। এসময় রুবি দাসের ভাতিজি শিশু কণ্যা তিন্নি বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে অশালিন ভাষায় গালিমন্দ করে তাড়িয়ে দেয় বিমল দাস। পরে বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের ব্যাপারটি জানান তিন্নি। একপর্যায় তারা বিমল দাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকায় বিচারপ্রার্থী হলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উটে বিমলসহ অন্যান্য দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা । দীপালের হুকুমে তারা বসতবাড়ীতে ঢুকে হামলা করে বসে ওই বৈষ্ণব পরিবারের উপর। এতে প্রতিপেক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হোন বৈষ্ণব নান্টু, রিন্টু, পিংকু, মিন্টু ও তার পরিবারের মহিলাসহ অন্যান্য সদস্যরা। এঘটনায় প্রতিপক্ষের আরো ২/৩জন আহত হন।

এদিকে স্থানীয়রা নান্টু দাসের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে প্রতিবেদক’কে বলেন, বৈষ্ণব নান্টু দাস বিষয়টি নিস্পত্তি করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে তাকে শংকর নামের একজন লোক তার বাম হাতে দা দিয়ে কোপ দেন। পরবর্তীতে ষিয়টি সংঘর্ষে রুপ নেয়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে প্রেরণ করেন।

শুরু হয় মামলা কাউন্টার মামলার প্রতিযোগীতা। এতেই বিপত্তি দেখা দেয় পুলিশের হীন উদ্দেশ্যে মূলক বৈষম্য। চলে দর কষাকষি। পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় গায়েব হয়ে যায় রুবি দাসের অভিযোগ। ঘুরতে থাকেন দ্বারে দ্বারে।

পরিশেষে ২৫ মার্চ বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসলে নড়েছড়ে বসে বড়লেখা থানা পুলিশ। এবার নতুন আঙ্গিকে আরেকটি অভিযোগ থানায় দাখিল করলে বিষয়টি সুনজরে নেন ওসি নিজেই। কিন্তু সেখানেও চলে ঘুষ বাণিজ্যের লেনদেন। রুবি দাসের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে এসআই নিউটন হাতিয়ে নেন টাকা কড়ি। যার একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে ন্যস্থ রয়েছে। তবে এসআই নিউটন ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো প্রতিবেদক’কে বলেন, এই তথ্য আপনে কোথায় পেয়েছেন? পেয়ে থাকলে আপনে নিউজ করেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি গতকাল ২৬ মার্চ এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এর বাহিরে আর কিছু বলতে পারবোনা বলেই মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

অপরদিকে লুকোচুরি ভুল তথ্য উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বানোয়াট শংকর দাসের এফআইআর কৃত মামলা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রত চন্দ্র দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি ১৬ মার্চ সকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং ১৭ মার্চ কোন ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করেন।
অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার তারিখের বিষয়টি মামলার বাদি বলতে পারবেন। এসময় তদন্ত পূর্বক মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি কোন সদ্বত্তোর দিতে পারেন নি। অথচ অদৃশ্য কারনে শংকরের দেওয়া অভিযোগপত্রে ঘটনার দিন ও তারিখ দুইদিনের বিষয়ে পৃথক ভাবে উল্লেখ রয়েছে।
আরেকটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মামলার দুই আসামি গতকাল রাতে আটক করা হয়েছে সেখানেও তিনি ঘটনার তারিখ ও সময় একদিন এগিয়ে নিয়ে ১৬ মার্চ দেখিয়ে আদালতে আসামি সোপর্দ করেছেন। অপরদিকে রুবি দাসের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নিউটন রহস্যজনক কারনে এখনো পর্যন্ত কোন আসামি আটক করতে পারেননি। পুলিশের এরকম ন্যাক্কারজনক ভূমিকায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কাশেম সরকারের মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, চাঁদা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যান্য বিষয় তিনি এড়িয়ে যান। তবে তিনি বলেন, কোন প্রতিবন্ধি বৃদ্ধ লোক বা শিশু কণ্যা আসামি করা হলে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে দেখে তাদের বাদ দেয়া হবে।

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার এম,কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দায়সাড়া কথা বলেন, এসআই টাকা নিলে তো মামলা এফআইআর হবেনা, মামলা এফআইআর করবে ওসি। আপনে বিষয়টি ওসিকে জানান। ওসিকে জানানো হয়েছে বললে তিনি প্রতিবেদক’কে বলেন, তাহলে দেখেন তিনি কি সিদ্ধান্ত দেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাদি যদি কাউকে আসামি করে তাহলে সেখানে পুলিশের কিছু করার থাকেনা। তিনি বলেন, মামলা চার্জশিটের সময় নিরপরাধ হলে তারা অব্যাহতি পাবে। এসময় তার কাছে ভুয়া তথ্য দিয়ে মামলা রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আপনে মামলার কাগজ নিয়ে থানার ওসির সাথে বসলে সকল সমস্যার সমাধান পাবেন!

এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত একটি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে রুবি দাস বিষয়টি সাংবাদিকদের জানালে থানা পুলিশের এসআই সুব্রত ও নিউটন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হয়রানি করতে বিভিন্ন ফন্দি আটছেন। বর্তমানে মামলার বাদি ও পরিবার চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভূগছেন।

নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।