• ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১০ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চোর পুলিশ খেলায় মত্ত ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর!

admin
প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার, ২০২৬ ০১:৫২:১৭
চোর পুলিশ খেলায় মত্ত ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর!

স্টাফ রির্পোটার, সিলেট //

ফলোআপ। সিলেটে শীর্ষ ডেভিল-ওসি’র গোপন বৈঠক! শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই সিলেট জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেরিয়ে আসছে একের পর এক চোর পুলিশ খেলা। এসবের নাটের গুরু হলেন ডেভিল শেল্টারদাতা ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

অনূসন্ধ্যানে জানা গেছে, বিগত ১৪ জানুয়ারি বিকেল আনূমানিক ৫টার দিকে শাহপরাণ বাহুবল আ/এ, ফ্যাসিবাদ ডেভিলরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালায় প্রবাসী নিবাস চন্দ্র নাথসহ তার পরিবারের আত্মীয় স্বজনের উপর। এতে আহত হন অন্তত তিনজন। লুটপাট করা হয় টাকাপয়সা সহ স্বর্ণালংকার। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে ১৮ জানুয়ারি রাতে শীর্ষ ডেভিল বীরেশ দেবনাথকে প্রধান আসামি করে মোট ১১ জনরে নামোল্লেখ সহ প্রবাসীর পক্ষে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুষমা বালা দেবী। কিন্তু শীর্ষ ডেভিলদের পাল্লায় পড়ে রহস্যজনক কারনে আদৌ অভিযোগটি আমলে নেয়নি পুলিশ। এরমধ্যেই অতি গোপনে শীর্ষ ডেভিলদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ওসি।

এদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উল্লেখ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিষয়টি চাউড় করতে থাকে চক্রান্তকারী ডেভিলরা। একপর্যায় বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নজরে আসলে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। ওসি ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। একেক সময় একেক কথা বলে অভিযোগ আড়ালে ব্যস্থ্য হয়ে পড়েন। ওসি জানতেন না অভিযোগ থানায় দাখিলের পরেই বাদিনীর ছেলে পুরো বিষয়টি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ ডিসিকে অবহিত করেন এবং অভিযোগের কপি সহ অন্যান্য কাগজাদি হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরণ করেন। একই ভাবে অনুসন্ধ্যানী প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একজন সিনিয়র সংবাদকর্মীও বিষয়টি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করার পরে হোয়াটসঅ্যাপে কাগজ প্রেরণ করেন। এতকিছুর পরেও চোর পুলিশ খেলায় মত্ত হয়ে উঠেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

শাহপরাণ (রহঃ) থানায় যখন ১৮ জানুয়ারি রাতে বাদিনী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেই মুহুর্তে আরেকজন সংবাদকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবাদকর্মী তখন তদন্ত ওসি মুজিবুরকে মুঠোফোনে কথা বলে অভিযোগখানা দাখিল করেন থানায়। অথচ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টিকে নাটকের মঞ্চে পরিণত করেছেন যা হলিউড সিনেমাকেও হার মানিয়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, ডেভিলদের পক্ষে তদারকি ও তাদের রক্ষা করতে ওসি’র ভুমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ক্ষমতা জারি রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত ।

এদিকে বাদিনীর ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের প্রায় সপ্তাহখানেক হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পুলিশ এখনো তদন্তেই আসেনি। এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদিরা বিভিন্ন ভাবে তাদের এখন হেয় প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভুগছেন। প্রতিবেদক’কে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বিষয়টি দক্ষিণের ডিসি স্যারকে জানিয়েছি এবং হোয়াটসঅ্যাপে সকল কাগজ পাটিয়েছি কিন্তু কোন ন্যায় বিচার পাচ্ছিনা। একপর্যায় তিনি সকল সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে শাহপরাণ (রহঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না হওয়ায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিয়মিত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন।