
যশোর প্রতিনিধি //
২০৩০ সালের মধ্যে সরকার সোলার প্যানেল থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে সরকার সোলার প্যানেল তথা সৌরবিদ্যুৎ খাতকে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে যশোর কারিগারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত সোলার ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক দক্ষতা প্রশিক্ষণের ওপর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠানটির সোলার ইলেকক্ট্রিক্যাল সিস্টেম ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ল্যাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের কাছ থেকে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এতে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬-৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যসমূহ যেমন সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর ছাড়াও অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রুফটপ সোলার স্থাপনে সরকার দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য কর্মসূচি নিয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেটির বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার আগামী গ্রীষ্মের আগেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য সহজশর্তে ঋণের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার এ খাতের জন্য দক্ষ জনবল সৃষ্টি করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপিত ৭ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল পরির্দশন করেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ গাজী ইফফাত মাহমুদ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সোলার প্যানেল দাবি করলে প্রতিমন্ত্রী তা পূরণের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুজন সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এরপর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় তিনি ৭৮টি প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেন।
সংবাদ পড়ুন, মতামত দিন।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.