
আন্তর্জাতিক ডেস্ক //
ফাইল ছবি। উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যের বুক চিরে এক বিশাল জ্বালানির বহর গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালি পার হতে যাচ্ছে প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও গ্যাসবাহী একাধিক সুবিশাল ট্যাঙ্কার।
আন্তর্জাতিক জলপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স ডটকম’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই সুখবরটি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে ওমান উপসাগরেও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর আনাগোনা ও ব্যস্ততা বেশ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার ওমান উপসাগরে ছিল এক বিরল দৃশ্য। সেদিন ১৭টি বড় জাহাজের মধ্যে সরাসরি তেল ও গ্যাস আনাগোনা এবং স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি এই হাতবদলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। বহু দিন সামরিক উদ্বেগে থমকে থাকার পর সাগরের বুকে এমন ব্যস্ততা বাণিজ্য সচল হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটিকে নিরাপদ করতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। জলপথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২০০টিরও বেশি বিপদজনক ও মাইন জাতীয় বস্তুর মধ্যে নিশ্চিতভাবে ১১টি সামুদ্রিক মাইন উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করেছে মার্কিন বাহিনী।
সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ঘোষণা দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্যিক পথটি এখন পুরোপুরি ইরানি মাইনমুক্ত। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আবার নির্বিঘ্নে চলাচল শুরু করতে পারছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে যে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তার ভীতি এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি। ফলে বাণিজ্য আবার চালু হলেও তা স্বাভাবিক গতিতে ফেরেনি।
ডেটা সংস্থা ‘কপ্লার’-এর হিসাবে দেখা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪টি বড় পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করতে পেরেছে। অথচ সাধারণত ১০ দিনের গড় হিসাবে দৈনিক অন্তত ১৩টি জাহাজ এই পথ দিয়ে আসা-যাওয়া করার কথা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম মোড় নেয়। জুলাইয়ের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই লড়াইয়ে মার্কিন সেনার হামলার জবাবে তেহরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত এবং ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানে।
সামরিক দিক থেকে অঞ্চলটি চরম উত্তপ্ত থাকলেও, মার্কিন বাহিনীর পাহারায় হরমুজ প্রণালিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হওয়া বিশ্ব বাজার ও অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
সূত্র: শাফাক নিউজ।
নিয়মিত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.