
বিনোদন প্রতিবেদক //
বড় পর্দায় আবারও সালমান শাহ। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের [বিএফডিসি] ভিআইপি প্রজেকশন হলে সোমবার বিকেল ৪টায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ প্রদর্শনের সময় যেন ফিরে এসেছিল নব্বইয়ের দশক। পর্দায় সালমান শাহ ও মৌসুমী, আর হলভর্তি দর্শকের চোখে নস্টালজিয়ার ঝিলিক। কেউ এসেছেন প্রিয় নায়ককে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ভাগ করে নিতে, কেউবা ফিরে যেতে চেয়েছেন নিজের কৈশোর-তারুণ্যের স্মৃতিতে।
সালমান শাহ স্মরণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) আয়োজিত তিন দিনের উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল। সিনেমা শুরু হওয়ার আগেই প্রজেকশন হলের সামনে দর্শকের ভিড় জমে যায়। আলো নিভে পর্দায় সালমান শাহর উপস্থিতি দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয় অন্যরকম উচ্ছ্বাস।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা রাকিব হাসান বলেন, ‘সালমান শাহকে ছোটবেলায় টেলিভিশনের পর্দায় দেখেছি। আজ বড় পর্দায় তাঁর প্রথম সিনেমা দেখার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। মনে হচ্ছে, আবার সেই স্কুলজীবনে ফিরে গেছি। সিনেমার গান, সালমানের পোশাক, অভিনয়– সবকিছুই পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।’
সিনেমা দেখতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘সালমান শাহকে আমরা তাঁর সিনেমার মাধ্যমে চিনেছি, কিন্তু তাঁকে ঘিরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে অনেক গল্প শুনেছি। আজ ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ বড় পর্দায় দেখে বুঝতে পারলাম, কেন তিনি এতটা জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর অভিনয়ের মধ্যে একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে।’
আরেক দর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সালমান শাহ নেই ৩০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু তাঁকে দেখে মনে হলো তিনি যেন এখনও আমাদের মাঝেই আছেন। সিনেমা চলার সময় দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, গান শুরু হলে সবার মুখে হাসি– সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।’
চার বছরের অভিনয়জীবনে মাত্র ২৭টি সিনেমা করেও সালমান শাহ হয়ে উঠেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। তাঁর মৃত্যুর ৩০ বছর পরও দর্শকের এই উচ্ছ্বাস যেন প্রমাণ করে, সময় পেরোলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি।
সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.