
ঢাকা //
জাতির ঘাড়ে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেকটি জাতির নিজস্ব সক্রিয় সংস্কৃতি থাকে। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির লালন এবং ধারন থেকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলে। শুধু বক্তব্যে নয়, সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের উপযুক্ত উদ্যোগে জাতিকে সুস্থ সংস্কৃতির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব।
শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। সাংস্কৃতিক অধঃপতনে সমাজে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলে মনে করেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যার কাছ থেকে শিখব, তাকে সম্মান করব। কিন্তু এখন আমাদের সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে? কলেজের প্রিন্সিপাল যিনি, তাকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলা! এই দৃশ্য অপসংস্কৃতির প্রভাব। সন্তানদের মানুষ বানাতে হলে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ওমপি, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।
শিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’
১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ-২০২৬’ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংগঠনটির আয়োজনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শিক্ষাবিদ আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বিরোধী দলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম প্রমুখ।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘রোড টু সিরাহ-২৬’ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত ফলাফলে ‘ক’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা তুবান শারা। তিনি নগদ ৬০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, বই, ক্রেস্ট ও সনদ লাভ করেন। ‘খ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিভাগের রঈসুল ইসলাম। ‘গ’ গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করেন রাজশাহী বিভাগের আতিয়া বিলকিস তামান্না। তাদের ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের ল্যাপটপ, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ২৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। তিনটি গ্রুপের চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা এবং একাদশ থেকে পঁচিশতম স্থান অধিকারীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়।
শফিকুর রহমান প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাসূল (সা.) এর জীবন চর্চার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের হৃদয় হেদায়েতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। তাদের এই অংশগ্রহণ যেন কেবল পার্থিব পুরস্কার বা সনদ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.