
বিশেষ প্রতিবেদক//
ফাইল ছবি।দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত প্রায় ছয় মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জনের।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
মৃত্যু বেশি ঢাকায়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭০, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯০৫ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ৮২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭৩, চট্টগ্রামে ১৬৬, বরিশালে ৭৮, খুলনায় ৭৪, ময়মনসিংহে ৫৭, রাজশাহীতে ৩১, রংপুরে ২৭ এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন রয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ২৪। তাদের মধ্যে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬৯ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগীর পরীক্ষা করা হয় না। একইভাবে হাসপাতালের বাইরে থাকা উপসর্গযুক্ত রোগীদেরও সবার হাম পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত হাম আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারি হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৯ হলেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.