
খেলা ডেস্ক //
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হতাশাজনক হারের পর এবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জামাল ভূঁইয়ারা। সেই সঙ্গে আগের দুই ম্যাচের হারের ‘প্রতিশোধ’ নিতে চান বলে জানিয়েছেন মিডফিল্ডার শমিত সোম।
সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা। ম্যাচের আগে আজ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শমিত।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে শমিত বলেন, ‘ওদের সঙ্গে গত এক বছরের মধ্যে দুই ম্যাচ খেলেছি বলা যায়। এরপর আমরা দেখেছি, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ওরা কীভাবে খেলেছে। সেখান থেকে শিখছি, ভাবছি কীভাবে ওদের দুর্বল জায়গাগুলো কাজে লাগানো যায় এবং কীভাবে ওদের শক্তির জায়গাগুলো ঠেকাতে হবে। মূলত আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে ম্যাচের জন্য পুরোপুরি তৈরি থাকতে পারি।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের দুই ম্যাচের ফলও শমিতদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো দুইবার ওদের কাছে হেরেছি। আমাদের একটা প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা আছে। আসিয়ান কাপে ভালো করার জন্য এটাও খুব ভালো একটা সময়। সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
প্রতিপক্ষের খেলার ধরনও বাংলাদেশের অজানা নয় বলে মনে করেন শমিত। ‘ওদের একটা স্ট্রাকচার আছে, ভালো একটা আইডেন্টিটি আছে। ওরা যেভাবে খেলে, সেটা আমরা জানি। ওদের দুই-তিনটা রোটেশন আছে, যেগুলো ডেঞ্জারাস হতে পারে। দুই-তিনজন খেলোয়াড়ও খুব বিপজ্জনক। তবে আমরা এগুলো আগেই জানি। আগের ম্যাচে ওরা আমাদের বিপক্ষে কোথায় সফল হয়েছে, সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করছি। নতুন কোচের অধীনে সেগুলো মাথায় রেখে কিছু মূল বিষয় যোগ করার চেষ্টা করছি, যাতে এই ম্যাচে ভালো করতে পারি।’
মালয়েশিয়ার কাছে হেরে আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিলেও সবকিছু ঠিক আছে জানিয়ে শমিত বলেন, ‘টিমের মধ্যে সবকিছু ভালো। অবশ্যই মালয়েশিয়ায় আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে সবাই খুশি নই। তবে চেষ্টা করব ভালো খেলতে। মূল বিষয় হলো, আমাদের পরের ম্যাচে এগিয়ে যেতে হবে। এখন সবার ফোকাস সিঙ্গাপুরের দিকে।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের পারফরম্যান্সকে হতাশাজনক উল্লেখ করে শমিত বলেন, সেই হতাশাই এখন প্রেরণা। ‘আমাদের আসলে কোনো আলাদা প্রেরণা লাগে না। আমরা জানি, শেষ ম্যাচে ভালো খেলিনি। একজন ফুটবলার হিসেবে আমরা জিততে চাই, প্রতিযোগিতায় ভালো করতে চাই। সেটাই আমাদের মোটিভেশন। আর সবচেয়ে বড় মোটিভেশন হলো সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি। ওদের সঙ্গে আমরা দুইবার হেরেছি। কখনো মনে হয়েছে অন্তত একটা পয়েন্ট পেতে পারতাম, হয়তো জিততেও পারতাম। তাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এটা ভালো একটা সময়।’
নিউইয়র্ক কসমসের এই মিডফিল্ডারের মতে, মালয়েশিয়ার কাছে হারটি বাংলাদেশের ঘাটতিগুলোও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। শমিতের ভাষায়, ‘এই ফিফা আসিয়ান কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আমাদের জন্য বড় সম্মানের। আমরা ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলছি। একটি দেশ হিসেবে উন্নতি করতে চাইলে এ ধরনের দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য কিছুটা ধাক্কার মতো ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছি, আরও উন্নতি করতে হবে, নিজেদের গুছিয়ে নিতে হবে। সেই ম্যাচ থেকে আমরা শিখেছি। এখন সেই শিক্ষা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চাই।’
নিয়মিত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.