
সিলেট প্রতিনিধি //
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যাওয়ার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে টানা প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বদলি করা অধ্যক্ষ, ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬-৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত ২০ জন।
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে গতকাল সোমবার রাত ৯টায় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বড় কষ্টে আছি আমরা। এক কাপড়েই দুই দিন কেটে গেল অবরুদ্ধ অবস্থায়। জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীরা কিছু খাবার দিচ্ছে, সেসব খেয়েই কোনোমতে বেঁচে আছি। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কারও কোনো আহ্বান বা অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের তিনটি বিভাগে—তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক, পুরকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মান ও স্বকীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা রক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা, ল্যাব ও ক্লাশসহ সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউনও থাকবে।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আন্দোলনরত চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারের এই বদলির আদেশ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছি। মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ বদলি করা অধ্যক্ষকে যেমন ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হবে না, তেমনি নতুন পদায়িত অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন ও শিক্ষকদের মুক্ত করতে সোমবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিসিকের প্রশাসক, জেলা পুলিশ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ১০ সদস্যের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলও অংশ নেন।
বৈঠকে শিক্ষকদের দুই দিন ধরে চলা অবরুদ্ধ অবস্থা অবসানের অনুরোধ জানানো হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা সুরাহা হয়নি।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত নিলাম, তা কলেজে গিয়ে বলতে বলা হলো। সেখানে গিয়ে বলার পর তারা সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এখন বলছে, বিদায়ী অধ্যক্ষকেও যেতে দেবে না, নতুন অধ্যক্ষকেও আসতে দেবে না। ফলে সমাধান আর হয়নি।
নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.