
আন্তর্জাতিক ডেস্ক //
বুধবার নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। মাটি থেকে আকাশ এবং চাঁদ সূর্য পর্যন্ত এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তার দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ভোট গণনাতেও কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯২ লাখ ভোটার বা ভোটের নাম নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, সারা দেশে এই সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। তবে এসব সংখ্যা ও অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
নির্বাচনী ব্যবস্থায় সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। সীমা খান্না নামে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই সফটওয়্যার কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার কী সম্পর্ক রয়েছে। ইভিএম পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগও করেন তিনি। মমতার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের আর এক মুহূর্তও পদে থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে।
গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার নামে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী এবং সাধারণ নাগরিকদের এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান মমতা। তিনি বলেন, বিরোধীরা একসঙ্গে লড়াই করবেন এবং গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এর আগে বিরোধী জোটের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবিতে যৌথ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়।
জোটের কয়েকটি দল বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছে বলে জানা গেছে। মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে।
সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.