
আন্তর্জাতিক ডেস্ক //
ফিলিপাইনে মাঝারি থেকে শক্তিশালী এল নিনো এবং সারের বাড়তি দামের কারণে ধান চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন কৃষকরা। এর ফলে দেশটিতে ২০২৬-২৭ মৌসুমে চাল উৎপাদন কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে দেশটিতে ছাঁটাই করা চালের (মিলড রাইস) উৎপাদন হতে পারে ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টন। আগের মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার টন। আবহাওয়ার ঝুঁকি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের ধান চাষের আগ্রহ কমে গেছে।
তবে কৃষকদের চাষ অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু রেখেছে ফিলিপাইন সরকার। দেশটির ন্যাশনাল রাইস প্রোগ্রাম (এনআরপি) এবং রাইস কম্পিটিটিভনেস এনহ্যান্সমেন্ট ফান্ড (আরসিইএফ) এ ক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে।
তবে উৎপাদন কমলেও দেশটিতে বাড়ছে চালের চাহিদা। ২০২৬-২৭ মৌসুমে চালের ব্যবহার বেড়ে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে। এর পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। তাই খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বেশি হলেও চাহিদায় এর বড় কোনো প্রভাব পড়ছে না। উৎপাদন কম হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে ৫২ লাখ টন চাল আমদানি করতে হতে পারে।
এল নিনোর প্রভাব পড়ছে ফিলিপাইনের ভুট্টা উৎপাদনেও। ২০২৬-২৭ মৌসুমে দেশটিতে ভুট্টার উৎপাদন ৮০ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে। আগের মৌসুমে উৎপাদন ছিল ৮২ লাখ টন। সেচের পানির সংকট ও ফলন কমে যাওয়ায় উৎপাদনের পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে দেশটির পোলট্রি খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে ভুট্টার চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশুখাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার বাড়ায় আমদানিও বেড়ে ২৯ লাখ টনে উঠতে পারে।
ফিলিপাইনে ভুট্টা আমদানির কোটা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কৃষি ও জ্বালানি বিভাগ ইথানল তৈরিতে ভুট্টা ব্যবহারের বিষয়টি পরীক্ষা করছে।
অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে গমের ব্যবহার ও আমদানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আশা করছে ইউএসডিএ। খাদ্যশিল্পে গমের চাহিদা বাড়লেও পশুখাদ্যে ভুট্টার ব্যবহার বাড়ায় সেই বৃদ্ধি অনেকটা সামলে যাবে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে পশুখাদ্যে গমের চাহিদা বাড়ায় ব্যবহার ও আমদানির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। তবে পাস্তার চাহিদা কম থাকায় গম রফতানির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।
নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.