
ঢাকা //
রাজধানীর শাহজাহানপুরে বাসা ছেড়ে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফরহাদের বড় বোন নূর আফসানা নিপা (৪৫) ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, লাল রঙের হেলমেট ও ঘটনার সময় পরা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে উত্তর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় ফকরুলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাতে তার স্ত্রী বাসায় ফিরে মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লাল হেলমেট পরা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে তোপখানা রোডের একটি অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লাল হেলমেট, হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও ঘটনার সময়ের পোশাক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত নিহতের বড় বোন নূর আফসানা নিপাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানায়, বাড়িটি নিহতের নানার সম্পত্তি ছিল। পরে সেটি দুই বোনের মধ্যে বণ্টন করা হয়। নিহত ফকরুল আর্থিক সংকটে পড়লে খিলগাঁওয়ে নিজস্ব দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় বসবাস করতেন। তবে বাসাটির গ্যাস-পানির বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বড় বোন ও ভগনিপতির সঙ্গে বিরোধ ছিল। তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়া হতো। সবশেষ গত আগস্ট মাসেও বাসা ছাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। তবে ফরহাদের ভাষ্য ছিল, সে মরার আগ পর্যন্ত বাসা ছাড়বে না।
আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে নিহতের বোন নার্গিস জানান, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তি,গ্যাস বিল ও পানি বিল নিয়ে আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সঙ্গে বিবাদ চলছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো বাড়িটি নিজেদের দখলে নেওয়া।
তিনি আরও জানান, ভবনের চারতলার ছাদের অংশটি নিজের নামে থাকায় সেখানে ভাইকে থাকার জায়গা দিয়েছিলেন। চারতলার ছাদের একটি টিনশেড কক্ষে ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী পেশায় বিউটি পার্লার কর্মী। গত বুধবার রাতে সুজন দেশীয় চাপাতি নিয়ে ফরহাদের ঘরে ঢুকে তার ওপর নৃশংস হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আব্দুস সামাদ সুজন ও নূর আফসানা নিপাকে আসামি করা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা এবং এতে বোন ও ভগনিপতির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় পুলিশ।
নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।
Editor and Publisher : Nityananda Sarkar,
News Editor- Arun Sarkar.