
শিপু, ছবি-সংগৃহীত।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি //
সুনামগঞ্জের ছাতকে ইংল্যান্ড প্রবাসীর বাড়ীতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছাতক উপজেলার শিমুল তলা এলাকার ইংল্যান্ড প্রবাসী মাহবুবুর রাজা রিপন চৌধুরী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত বৃহস্পতিবার ২৬ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমান চৌধুরী শিপু ও তার চাচাতো ভাই মসিউর রহমান চৌধুরী (কুটি) সিলেট মহানগরী এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন বাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে রিপন চৌধুরীর বসত বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় দুর্বৃত্তরা প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল গুড়িয়ে দেয়। এতে অন্তত প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। পরে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে প্রবাসী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীণতা ভুগছেন। শিপু বর্তমানে সিলেট মহানগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় বাসা বাড়ি নিয়ে বসবাস করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা সংক্রান্ত বিষয় ও বড়ো অংকের চাঁদা দাবি নিয়ে শিপু গং-দের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল রিপন চৌধুরীর। এছাড়া প্রায় সময়ে অসময়ে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে রাজা চৌধুরীর বাড়ি-ঘর দখলে নিয়ে নিবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় কৌশল অবলম্বন করে শিপু ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। একপর্যায় বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর ) সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী দুর্বৃত্ত নিয়ে পরিকল্পিত হামলা ও ভাংচুরের তান্ডব চালায়। পরে স্থানীয়দের ধাওয়ায় বাড়ি-ঘর রক্ষা পেলেও গার্ড ওয়াল রক্ষা করা যায়নি। যদিও শিপুর বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এতকিছুর পর থামছেনা তার দৌড়াত্ব।
এবিষয়ে জানতে ইংল্যান্ড প্রবাসী মাহবুবুর রাজা রিপন চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শিপু ও তার পালা বাহিনী দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও বাড়ি-ঘর দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল। এতে আমি রাজি না হওয়ায় তারা শুক্রবার আমার বাড়ি-ঘরে হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় তারা আমার বাড়ির দেয়াল ভাংচুর করে। এর একটি ভিডিও তার হাতে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান। পরে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছি। আমি ও আমার পরিবার প্রবাসে থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন দুর্বৃত্তরা একটি জাল-জালিয়াতি কাগজ সৃষ্টি করে আমার নামে এলাকায় দুর্নাম ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ আজ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আমার কোন ওঠা বসা নেই। তখন তিনি এর প্রতিকার দাবি করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়ার মুঠোয়ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এরকম কোন বিষয় তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আইনগত ব্যাবস্থা নিবেন। এনিয়ে শিপুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।