
মো: আব্দুল্লাহ, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি //
জৈন্তিয়ার জারা লেবুর কদর এখন দেশ বিদেশে। সিলেটের সীমান্ত ঘেষা জৈন্তাপুর উপজেলায় জারা লেবু চাষ করে প্রায় ১শ’ কৃষক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকার উৎপাদিত জারা লেবু দেশের বাজার ছেড়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা।
আন্যান্য ফসলের চেয়ে জারা লেবুর চাষ লাভবান হওয়ায় জারা লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছে কৃষক পরিবার। ভূমি ও টিলা শ্রেণী হওয়ায় লেবু চাষের জন্য খুবি উপযোগী।
জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল, হরিপুর, জৈন্তাপুর ও ফতেহপুর বাজার জারা লেবুর জন্য মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা জারা লেবু ক্রয় করতে আসেন ওই এলাকায়।
উন্নত প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবসায়ীরা দেশের বাহিরে লন্ডন, আমেরিকা, সিংঙ্গাপুর, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত সহ মধ্য প্রাচ্যার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।
সরেজমিন উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর, হরিপুর, বাগেরখাল, শিকারখাঁ, উৎলারপার, চিকনাগুল ইউনিয়নের উমনপুর, পানিছড়া, ঠাকুরের মাটি, নিজপাট ইউনিয়নের কালিনঞ্জিবাড়ি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে টিলা শ্রেণীর ভূমিতে বাণিজ্যিক ভাবে জারা লেবু চাষ হচ্ছে। অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় জারা লেবু চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক পরিবার গুলো। এই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য ফসল চাষাবাদ দিয়ে অধিক মুনাফার আশায় জারা লেবু চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এলাকার বেকারত্ব দূর হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে গ্রামের সাধারণ লোকজন। এক সময় প্রচুর জমি বছরের পর বছর অনাবাদী থাকতো এখন এসব জমির কদর অন্য সব জমির চেয়ে কয়েক গুন বেড়ে গেছে। জারা লেবুর কলম করা চারা রোপনের দুই বছর পর হতে ফলন আসতে শুরু হয় এবং গাছ গুলো ৫বছরের অধিক সময় ফলন পাওয়া যায়। জারা লেবুর বৈশিষ্ট হলে খুব স্বাদ ও টক জাতীয় ফল। লেবু দেখতে অনেকটা কুমড়ার মতো। লেবুর রস তেমন না থাকলে ও তা খেতে খুব স্বাদু।
বাগেরখাল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রতিবেদক’কে জানান, জারা লেবু চাষের জন্য আমাদের এলাকাটি খুব উপযোগী। আমাদের পূর্ব পুরুষরা জারা লেবু চাষ করেছেন শুধু নিজ পরিবারের জন্য, আমরা এখন বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করতে শুরু করেছি।
বাগেরখাল গ্রামের আরেক কৃষক নাসির মিয়া জানান, দীর্ঘ দিন থেকে আমি লেবু চাষ করে আসছি। বর্তমানে আমি সরকারি ভাবে সার ও কিটনাশক পেয়েছি। আমরা যদি আরো ভালো জাতের চারা ও প্রশিক্ষন পেতাম তাহলে লেবুর উৎপাদন দিগুণ বৃদ্ধি হত। প্রতিদিন আমার বাগানে ৫জন শ্রমিক পরিচর্যার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন। চলতি মৌসুমে বাগান হতে মুনাফা আসতে শুরু হয়েছে। সরকার যদি আমাদের মতো প্রকৃত চাষিদের উন্নতমানের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা ও রোগ বালাই প্রতিরোধের জন্য উন্নতমানের কিটনাশক এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করলে উপকৃত হতে পারতাম ও জারা লেবু বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম।
লেবু চাষ সর্ম্পকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইশতিয়াক আহমদ দ্য ডেইলিমর্নিংসান’কে বলেন- এলাকার প্রকৃত কৃষকদের মাধ্যমে লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের আওতায় বিভিন্ন আয়তনের ২০০ থেকে ২৫০ টি বাগান করেছি। এছাড়া বাগান পরির্চযায় কৃষি বিভাগ ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমস্ত উপকরন বিতরণ ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেল খলিল চৌধুরী বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে লেবু উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের চারা, সার ও কিটনাশক সহ সমস্ত উপকরন বিতরণ করি।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার প্রতিবেদক’কে বলেন- জৈন্তাপুরের মাটি ও আবহাওয়া সাইট্রাস জাতীয় ফলের জন্য উপযোগী। রয়েছে উচু নিচু টিলা বৃষ্টি পানি সহজেই গাছের গুড়ায় জমে থাকে না, এজন্য জৈন্তাপুর সাইট্রাস ও লেবু জাতীয় ফসল কম খরচে বেশী উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের কৃষি বিভাগ নিয়মিত ভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। তাছাড়া কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে।
নিয়মিত সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন।