
রতনমনি, নয়ন ও সুভাষ, ছবি-সংগৃহীত।
সিলেট প্রতিনিধি //
সিলেট নগরীর ইসলামপুর মেজরটিলার সোনাপুর এলাকায় সিসিক এর আওতাভুক্ত কানা ছড়ার পাড় কেটে নির্বিচারে পরিবেশ বিনষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শাহপরাণ (রহঃ) থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সরেজমিন ভুমি খেকো চক্রের ব্যবহ্নত একটি স্কেবেটর জব্দ করে পুলিশ।
জানা গেছে, ২০২৩ ইং-সালে কানা ছড়া খনন কাজ ছাড়ে সিসিক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি নাথপাড়া এলাকার মাফিয়া চক্রের ভুমি খেকো গডফাদার রজনী নিবাসের বাসিন্দা ২৩৩/ই, উত্তরা আবাসিক এলাকার মৃত- রসময় মোহন্তের ছেলে রতনমনি মোহন্ত ওরফে ব্যাঙি মোহন্ত (৬২)’র হুকুমে কানা ছড়ার পাড় কেটে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চালায়। সে ফসলাদি কৃষি ভুমি ভরাট ও প্লট বাণিজ্য করতে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।
সিসিক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার বিশম্ভরপুর উপজেলার পলাশ জনতা বাজার এলাকার মৃত- আরাধন দেবনাথের ছেলে ধীরেন্দ্র দেবনাথ নয়ন ((৪৬) বর্তমান ঠিকানা সারদা মন্দির নাথপাড়া, কানাইঘাট উপজেলার সাউদ গ্রামের হাজী মরহুম ইয়াকুব আলীর ছেলে মোঃ সিরাজ উদ্দিন (৫২) বর্তমান ঠিকানা- ফাল্গুনী, ইসলামপুর মেজরটিলা, সিলেট ও শাহপরাণ নীপবন মনিপুরি বস্তী এলাকার পিতা মৃত-অজ্ঞাত, সুভাষ দাস ওরফে মাটি সুভাষ (৪০)। একে অপরের যোগসাজশে অত্র এলাকায় সিসিকের অনুমতি না নিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসি স্কেবেটর দিয়ে মাটি কেটে কানা ছড়া বিলীনের পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। কেটে ফেলা হচ্ছে কানা ছড়ার পাড়, গড়ে উটা ছড় ও আশপাশ এলাকার কৃষি ফসলাদি জায়গা সহ ছনখোলা। এতে ছড়ার পরিবেশ বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
রহস্যজনক হলেও সত্য যে, অদৃশ্য শক্তির কারনে সিসিক ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ চোখে টিনের চশমা, সব দেখেও না দেখার ভান করছে। অভিযোগ রয়েছে সিসিকের দায়িত্বরত সিও রাফিন সরকার বিষয়টি অবহিত থাকলেও আইনত কোন পদক্ষেপ নেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজরটিলা এলাকার আতঙ্কের নাম হলো স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের দোসর ভুমি খেকো মাফিয়া গডফাদার রতনমনি মোহন্ত। তার বিরুদ্ধে হামলা-মামলার ভয়ে কেউ কথা বলতে রাজি নয়। অল্পদিনে অবৈধ পন্থায় গড়ে তোলেছে পাহাড়সম সহায় সম্পত্তি। খোঁজ নিচ্ছেনা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকও।
এদিকে কানা ছড়ার পাড় এলাকা কেটে নেওয়ায় ওয়ারিশগণের পক্ষে ওই ভুমির মালিক দক্ষিণ ইসলামপুর ফাল্গুনী, আবাসিক এলাকার মৃত-চাঁন্দ মিয়া (চান মিয়া)’র ছেলে মোঃ আজিম উদ্দিন (৪৪) উল্লেখিত ভুমি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে বিগত ২ মার্চ রাতে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে রতনমনি মোহন্তকে প্রধান আসামি দিয়ে সহযোগি নয়ন, সিরাজ ও সুভাষের নামোল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে অভিযানে নামে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, বাদি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তার ও তাদের ওয়ারিশগণের ভুমি গোপনে জোর পূর্বক কেটে অন্যত্র মাটি নিয়ে যাচ্ছে সমুহ আসামিগণ। সেই ভুমির মাটি কেটে নিয়ে রতনমনি ফসলাদি কৃষি ভুমি ভরাট করে প্লট বরাদ্দ করছে। এতে বাদীর প্রায় আটলক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।তিনি বাধা-নিষেধ দিতে গেলে রতনের হুকুমে অন্যান্য আসামিরা তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। পরে তিনি ন্যায় বিচার পেতে আইনের আশ্রয় নেন।
এবিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে শাহপরাণ (রহঃ) থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন প্রতিবেদক’কে বলেন, অভিযোগ পেয়ে সোমবার দিবাগত রাতে কানা ছড়ার পাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধকৃত স্কেবেটর জব্দ করে ৩২ নং- ওয়ার্ডের সচিবকে অবহিত করে স্থানীয় এলাকার রেজওয়ান নামক এক ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিখ রেকার না থাকায় স্কেবেটরটি আনা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন মুরব্বি, আজ মঙ্গলবার মীমাংসা না হলে আসামীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।
নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।