
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি //
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে শিন্নি বিতরণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই গুরুতর আহতের খবর পাওয়া গেছে। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহতরা হলেন, একই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন (২৫) ও বিল্লাল হোসেন (৩৭)।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের বসতবাড়ির সামনে। আহত দুইজনকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানের কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশংকাজন হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তারা দুইজন ওসমানি হাসপাতালের ২৭ নং- ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
জানা গেছে, শবে বরাত রাতে নামাজের পর গ্রামের জামে মসজিদে মুসল্লীগণদেরকে শিন্নি বিতরণকালে তোফাজ্জল মিয়ার ছেলে সুফিয়ান মিয়া (৩৫)’র সঙ্গে আজিজুর রহমানের ছেলে বিল্লাল হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি উপস্থিত মুসল্লীগণ সমাধান করে দেন। কিন্তু সমাধানের রেশ না কাটতেই পূর্বের জের মেটাতে মৃত- মফজ্জুল আলীর ছেলে ১) হামজা মিয়া (৩৫), মৃত- হুশমত আলীর ছেলে ২) মিজান মিয়া (৩০), মৃত-মফজ্জুল আলীর ছেলে ৩) মতিউর রহমান (৪০), মতিউর রহমানের ছেলে ৪) নাইম আহমদ (২০) ও মৃত-হুশমত আলীর ছেলে হাবিব মিয়া (২১) সর্ব সাং- নাদামপুর তারা জনতাবদ্ধে একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় জাকির ও বিল্লাল হোসেনের উপর। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের দুই ভাইকে গুরুতর রক্তাত্ব জখম করে মাটিতে পুতে ফেলে দুর্র্বত্তরা। পালিয়ে যাওয়ার সময় নগদ পাঁচ হাজার ৩শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয় মতিউর রহমান। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে হত্যা সহ গুম করা হবে বলেও হুমকি প্রদর্শন করে। একপর্যায় আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর রক্তাত্ব জখম অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তী করেন। কিন্তু তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখানের দায়িত্বরত চিকিৎসক সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে ভিকটিমদের পিতা আজিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, তার দুই ছেলে বিছানায় কাতরাচ্ছে। এসময় তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি আইনের আশ্রয়ে ন্যায় বিচার চাইবো এবং আশা করি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে প্রশাসন।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার তদন্ত ওসি’র মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।
নিয়মিত সংবাদ পড়ুন।