• ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ’র নাশকতার রোড ম্যাপ প্রস্তুত, টাকা আসছে প্রবাস থেকে!

admin
প্রকাশিত ০৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২০:৪২:১৭
সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ’র নাশকতার রোড ম্যাপ প্রস্তুত, টাকা আসছে প্রবাস থেকে!

জামাল আহমদ, স্টাফ রির্পোটার, সিলেট //


প্রতীকী ছবি। ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে সিলেট সদর জালালাবাদ থানাধীন এলাকার মীরেরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ কার্যক্রম সংগঠন আওয়ামী লীগ গোপনে মিছিল সভা সমাবেশ ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিলেট শহরকে অস্থিতিশীল করতে হাতে নেওয়া হয়েছে বড়ো ধরণের সুপরিকল্পিত নাশকতার র্কাযক্রম। এমনটি ভয়াবহ তথ্য মিলেছে সরেজমিন অনূসন্ধ্যানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মীরেরগাঁও এলাকার ৭ নং- ওয়ার্ড ইউনিয়ন ও ৮ নং- কান্দিগাঁও ইউনিয়নের কতিপয় স্বৈরাচার আওয়ামী দোসর দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকার অনেক সহজ সরল লোকেরা জিম্মি দশায় ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক মিডিয়াকর্মী সংবাদ প্রকাশ করতেও ভয় পেতো। ষড়যন্ত্রমুলক হামলা, মামলায় জড়ানো ছিল সন্ত্রাসীদের নিত্য দিনের কার্যকলাপ। তৎকালীন সময়ে তারা প্রকাশ্যে দিবালোকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতো। কিন্তু বিগত ৫ আগষ্ট জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার গদি হারালে ঐ অস্ত্রধারীরা গা ঢাকা দেয়। সম্প্রতি সময়ে এসে আবারও তারা সোচ্চার হয়ে দলীয় নিষিদ্ধ কার্যক্রম সহ হামলার চক কষছে বলে বিশ্বস্থ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানিয়েছেন ৮/১০ জনের একটি দল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার বাদাঘাট এলাকা থেকে অতি গোপনে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করার পায়তারা করছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে নিরিবিলি স্থান বাদাঘাট এলাকা বেচে নিয়েছে ওই সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা। মাঝে মধ্যে বাসা বাড়িতেও বসে চলছে নিষিদ্ধ কর্মকান্ডের রোডম্যাপ। তাদের ভয়ে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীরাও নিরব। নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তারা তাদের পালা বাহিনীর পেছনেও ব্যায় করছে বড়ো অংকের কালো টাকার পাহাড়। এই বিশাল টাকার জোগান দেওয়া হচ্ছে লন্ডন, আমেরিকা ও ফ্রান্স প্রবাস থেকে। এদের গডফাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে টুকের বাজার মীরেরগাঁও গ্রামের মৃত- শমসর আলীর ছেলে আলী আকবর, মৃত-নূর উদ্দিনের ছেলে কিবরিয়া ও মৃত- রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে খলিল। এছাড়াও তাদের সঙ্গ দিচ্ছে একই এলাকার মৃত- শফাত উল্ল্যাহর ছেলে আক্কল আলী এবং মৃত শমসর আলীর ছেলে আলী আমজদ সহ গং আরো অনেকে।

এই আওয়ামী স্বৈরাচার দোসরদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে সিলেট সদর কোতয়ালী থানা এলাকার আওতাধীন কোর্টপয়েন্টে তৎকালীন সময়ে সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ আবুল খায়েরকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে তার পেট কেটে নাড়িভূড়ি বের করে আনন্দ উল্লাস করেছিল। বিষয়টি তখন টপ অফ দ্যা মিডিয়ায় পরিণত হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে দীর্ঘদিন উন্নত চিকিৎসার পর আবুল খায়ের বেচে যান। পরবর্তীতে তিনি আইনের ধারস্থ হলেও কোন ন্যায় বিচার পাননি। একপর্যায় নিরুপায় হয়ে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হোন। সেই সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা আবারও প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে বুক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এদিকে জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে বিষয়টি কড়া নজরে রাখা হয়েছে। এনিয়ে আইনি উদ্দ্যেগ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এবিষয়ে বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আবুল খায়েরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের এই সন্ত্রাসীরা এখনো আইনের ধরাছোঁয়ার বাহিরে। প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে স্থানীয় এলাকায় শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এসময় তিনি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপরে গুরুত্বারোপ দেন।

নিয়মিত সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।