• ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডিবির হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

admin
প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ০২:২৪:৪৪
ডিবির হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুদক

দি ডেইলিমর্নিংসান অনলাইন //


ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার কমিশন চার্জশিটটির অনুমোদন দিয়েছে। শিগগির এটি আদালতে জমা দেওয়া হবে। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

জমি ক্রয়, পাকা ভবন নির্মাণ ও মালিকানা বদল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদক কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এই মামলা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলে কমিশন চার্জশিট দেওয়ার অনুমোদন দেয়।

মামলা তদন্তকালে হারুন অর রশীদের সম্পদ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার উত্তরার দক্ষিণখান মৌজায় আশিয়ান সিটির কাছ থেকে ক্রয় করা ৫ কাঠার প্লটের মূল্য ৭৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। আসামী ২০১৫-১৬ করবর্ষে ও ২০১৮-১৯ করবর্ষে প্রায় ৮২ একর জমি ক্রয় করেছেন যার মূল্য ১ কোটি ৮ লাখ টাকা।

আসামী ঢাকার বনানী আবাসিক এলাকার ১০.৩৬ শতাংশ জমি ক্রয় ও ওই জমিতে তৈরি ইমারত তার বাবা আবদুল হাসেমের কাছ থেকে প্রাপ্ত হন, যার মূল্য ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। জমিটি প্রথমে আসামীর বাবা (মৃত) আবদুল হাসেমের নামে গুলশান সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সাফ কবলা করা হয়। অথচ আসামীর বাবার এত টাকা বিনিয়োগ করে ওই জমি কেনার মতো কোন সক্ষমতা তদন্তকালে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি হারুন অর রশীদের নামে হেবা করা হয়।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে ৮ তলা বাড়ির মালিকানা হিসেবে হারুন অর রশীদের ৫০ শতাংশ এবং তার স্ত্রী শিরিন আক্তারের মালিকানা ৫০ শতাংশ। হারুন অর রশীদের আয়কর নথিতে বাড়ির ৫০ শতাংশ এর মূল্য বাবদ প্রদর্শন করা হয়েছে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৭ টাকা। জমিটি আসামী তার বাবার কাছ থেকে হেবামূলে পাওয়া দেখিয়েছেন। দলিলে ভূমির মূল্য উল্লেখ করেন দেড় কোটি টাকা। আট তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি টাকা। হারুন অর রশীদের মালিকানাধীন ৫০ শতাংশ জমি ও বাড়ী নির্মাণের খরচসহ মোট বিনিয়োগ বা ব্যয় হয় ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি থেকে তার নামে বরাদ্দ ৩.৬৮ কাঠার প্লটের জন্য মোট জমা করেছেন ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। কক্সবাজার সদর উপজেলায় ২.৫ কাঠা জমি ক্রয় করা হয়, যার দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। কক্সবাজারের টেকনাফে দুইটি জায়গার ক্রয় মূল্য দেখিয়েছেন ২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে তার স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটি ৭ লাখ টাকা। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার সর্বমোট সম্পদের মূল্য ২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
ভাইয়ের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে

হারুন অর রশীদের ছোট ভাই এ. বি. এম. শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত ১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট এন্ড এগ্রো লিমিটেডের এমডির দায়িত্বে আছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদের মালিক হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার অভিযোগে এই চার্জশিটে হারুন অর রশীদকেও আসামী করা হচ্ছে।

সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।