
স্টাফ রির্পোটার, সিলেট//
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড়ো কাজ, সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব। এই বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে আমি মনে করি সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব যে সংসদ আছে সেই সংসদকে ফাংশনাল করা যাতে কাজগুলো যেন ঠিকঠাক হয় এবং অন্যান্য বিষয়গুলো দ্বিমত থাকতে পারে সেই দ্বিমতগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
এসময় তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়েছে এই সরকার চেষ্টা করছে অতি দ্রুততার সাথে ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশকে জাগিয়ে তোলার। বহু ত্যাগ তিতিক্ষা ও রক্তপাতের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্টকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি। তাই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে।
সহধর্মিণীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখানে যিনি বসে আছেন তিনি আমার সহধর্মিণী। তিনি কথা বলতে ভুলে গেছেন তাকে যদি আমি ধন্যবাদ না জানাই তার কথা যদি আমি না বলি তাহলে আমার অন্যায় হবে কারন তিনি আমাকে সাহস যুগিয়েছেন আমার পথচলাতে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন আমার সন্তানদের তিনি মানুষ করেছেন এবং এখনো আমার পাশে থেকে তিনি সাহস যুগাচ্ছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
এর আগে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণের পর সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সিলেটে পৌছে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম সিলেট সফর।
বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জিকে গউছ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরে বিমানবন্দর থেকে সিলেট সার্কিট হাউজে আসেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
সার্কিট হাউজে স্বল্প বিরতির পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের দরগাগেট এলাকায় সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখানে তিনি দেশ ও জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন।
হজরত শাহজালাল (রহ)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি রওনা দেন সিলেটের খাদিম নগরে হজরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে। সেখানে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং জোহরের নামাজ আদায় করেন।
সিলেটে একদিনের এই সফরে বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি।