• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা, পুলিশ

admin
প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ২০২৬ ০৩:১১:৫৬
আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মা-ভাতিজিকে হত্যা, পুলিশ

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি //


পায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও আত্মহত্যার চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ছয় মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার ভাবিও গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত ইমনের মা মোছা. ফিরোজা বেগম (৬২) এবং ইমনের ছয় মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমন প্রায় দুই বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান। এতে তার পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও পায়ের ব্যথা ও চলাফেরার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি পায়ের ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ইমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রোববার রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মোছা. ফিরোজা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

পুলিশ জানায়, এর জেরে সোমবার সকালে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে মোছা. ফিরোজা বেগমকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে মায়ের কাছে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে তুলে নিয়ে আছাড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে ভাবি রাবেয়া বেগমকেও মারধর করা হয়।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরোজা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, পায়ের যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদের সাথে যুক্ত থাকুন, মতামত জানান।