• ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র পারমাণবিক বোমা নয়, শান্তি: মঈন খান

admin
প্রকাশিত ০৩ অক্টোবর, শনিবার, ২০২৬ ২৩:৫৩:৫০
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র পারমাণবিক বোমা নয়, শান্তি: মঈন খান

ঢাকা //


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র পারমাণবিক বোমা নয়, শান্তি। যুদ্ধ ও ধ্বংস নয়, শিল্প-সংস্কৃতি ও মানবিকতার শক্তিতেই বিশ্বে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বিশ্ব শান্তি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি নিউক্লিয়ার ফিজিকসের ছাত্র। পারমাণবিক বোমা কীভাবে তৈরি হয়, সে বিষয়ে আমি পড়াশোনা করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে পারমাণবিক বোমা সবচেয়ে শক্তিশালী একটি অস্ত্র। কিন্তু আমি সে বিষয়ের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বাস করি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে শান্তি।’

শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সংগীত, চিত্রকলা ও নৃত্য মানবসভ্যতার ইতিহাসে শান্তির বাহন। শিল্পকলা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা স্বীকার করে না। আমরা যখন বাংলা ভাষায় কথা বলি এবং ইংল্যান্ডে যাই, সেখানে আমাদের ভাষা অনেকেই বুঝতে পারেন না। আমাদের কথা বোঝাতে ইংরেজিতে কথা বলতে হয়। কিন্তু সংগীত, চিত্রকলা কিংবা নৃত্যের ক্ষেত্রে এমন ভাষাগত বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন শিল্পী লন্ডনের কোনো আর্ট গ্যালারিতে গিয়ে পারফরম্যান্স করলেও সেটি উপভোগ করতে দর্শককে বাংলা ভাষা শেখার প্রয়োজন হবে না। শিল্পকলার শক্তি পৃথিবীর ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই যে শিল্পকলার শক্তি, সেটা পৃথিবীর ভৌগোলিক সীমারেখাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায়।’

শিল্প ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব শান্তির অন্যতম শক্তিশালী বাহন হিসেবে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘এ কারণেই বিশ্ব শান্তি দিবসের সঙ্গে শিল্পকলার একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে।’

অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি জানান, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সেলিমা রহমান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সরাসরি অনুদান দেয়ার সুযোগ ছিল তার।

বিশ্ব শান্তি দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘১৯৮১ সালে জাতিসংঘে একটি রেজল্যুশন গৃহীত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে ২১ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। শিল্পকলার চর্চা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি করে। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠায় শিল্প ও সংস্কৃতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আসুন, আজ আমরা সেই উদার মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করি যে শান্তির মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বে একটি সুষম, সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে পারি।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও কলাকুশলীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

মতামত জানান।