• ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোট ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

admin
প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ০১:০২:৪১
ভোট ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ঢাকা //


ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয় বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এ সংক্রান্ত বিধিমালার সংশোধনী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সদস্য প্রার্থীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ টাকা। এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হলফনামায় দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদের বিবরণ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা (সংশোধনী) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা বুধবার প্রকাশিত হয়। প্রসঙ্গত এর আগে চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ছিল ৫ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর এক লাখ টাকা।

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বন্ধে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন তদন্ত করে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

এছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। অনুসন্ধানের পর প্রয়োজন মনে করলে ওই কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোটের বিধান করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেবে কমিশন।

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সি একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। সহায়তাকারীকে ভোটারের পছন্দ গোপন রাখার নির্দেশনা দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারের তালিকাও সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ হিসেবে বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা বা প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ গণ্য করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন। কোনো প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে হবে। যেখানে চেয়ারম্যানের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য আসনে ১২ এবং সংরক্ষিত আসনের ১০টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সংবাদ পড়ুন, মতামত জানান।